পৃথিবীর গাঠনিক ত্র“টিই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ

পৃথিবীর গাঠনিক ত্র“টিই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
সম্প্রতি নাসার এক প্রতিবেদনের সূত্র ধরে রুশ পত্রিকা প্রাভদা জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হিসেবে এতদিন গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী করা হলেও নাসা বলছে মানব সৃষ্টি কোন কারণ নয় বরং পৃথিবীর গাঠনিক ত্র“টির কারণেই সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হচ্ছে বা পরিবেশ ও জলবায়ু বিপর্যয় ঘটছে।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পৃথিবীর চৌম্বক মেরুর ব্যাপক বিচ্যুতি ২০১১ সালের শুরুর দিকে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ ঝড়ের সৃষ্টি করে। ইতিমধ্যে পৃথিবীতে যে ধারাবাহিক ঝড় শুরু হয়ে গেছে তার পেছনে পৃথিবীর গাঠনিক ত্র“টির প্রভাবের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। কিছুদিন আগে উত্তর আমেরিকায় যে ভয়াবহ তুষার ঝড় বয়ে গেল তাতে নতুন বরফ যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে এমন আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।
২০১০ সালের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝোড়ো হাওয়া, ক্রিসমাসের আগে যুক্তরাষ্ট্রের তুষার ঝড় ও ফেব্রুয়ারিতে আবারও ঝড়ের হানা, অষ্ট্রেলিয়ায় স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বন্যা এবং বন্যা দুর্গত এলাকায় পরবর্তীতে ৫ এর বেশি মাত্রার হারিকেন এসব নতুন বরফ যুগের সূচনার বার্তা বহন করে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ  ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৫০ মিলিয়ন মানুষ। এর ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ে প্রায় ২ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। অষ্ট্রেলিয়ায় অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় কুইন্সল্যান্ড এলাকার পানি এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, রাস্তায় হাঙর সাঁতার কাটতে দেখা গেছে। নিরুপায় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, পানি কোন ভাবেই নিষ্কাশন করা সম্ভব নয়। বন্যা কবলিত অঞ্চলটি হয়তো ছোট খাটো সাগরে রূপান্তরিত হবে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসি আঘাত হানে অষ্ট্রেলিয়ায়। এর বাতাসের গতি ছিল ঘন্টায় ২০০ মাইল। যা ৫ মাত্রার হারিকেনের চাইতেও ২২ শতাংশ বেশি গতি সম্পন্ন।

জলবায়ু গবেষকদের দাবি, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত বিচ্যুতির দরুন অদূর ভবিষ্যতে এমন ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যার বাতাসের গতিবেগ হবে ঘন্টায় ৩’শ থেকে ৪’শ মাইল। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সূর্যের তড়িৎ চুম্বক ক্ষেত্রে পৃথিবীর সঙ্গে যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে তার প্রভাব শুধু পৃথিবীর চৌম্বক বলয় নয়, এর অক্ষের বিচ্যুতি, কোরের মধ্যকার গতিময়তা, সমুদ্র স্রোত এবং আবহাওয়ার উপরও পড়ছে। এর ফলে পৃথিবীর চৌম্বক কেন্দ্র গত ১০ বছরে প্রতি বছর ৪০ মাইল করে পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে এবং এ বিচ্যুতি বেড়েই চলেছে। অথচ স্বাভাবিক অবস্থায় এর বিচ্যুতি হয় গড়ে ৫ মাইল। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের এক গবেষণায় দেখায়, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে বড় ধরনের একটি সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে আয়নস্ফেয়ার এবং ট্রাপেস্ফেয়ারে বায়ু প্রবাহ নেতিবাচক ভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় সংস্থা এসওএএ’ও একই রকম তথ্য প্রকাশ করেছে।
আলোচিত এ নতুন তত্ত্ব পৃথিবীর জলবায়ুবিদ ও সচেতন মহলকে পরিবেশ সম্পর্কে নতুন ভাবে চিন্তিত করছে। যা জলবায়ুর পুরো ধারণাটিকেই পালটে দিতে পারে। বিজ্ঞান যে নিয়ত পরিবর্তনশীল এবং এখানে শেষ কথা বলে কিছু নেই, হয়তো এটিই আবার প্রমাণিত হতে যাচ্ছে।

 

মুহাম্মাদ হাবিবুর রহমান (আবির)
লেখক- শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।